আল ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু সালিহ্‌ আল ‘উছাইমীন কর্তৃক ব্যাখ্যাকৃত আল ইমাম ইবনু ক্বোদামাহ আল মাক্বদিছী রচিত -‘আক্বীদাহ সংকলন- গ্রন্থ (৪৫নং পর্ব)

এই অডিওটি আশ্‌শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু সালিহ্ আল ‘উছাইমীন o কর্তৃক ব্যাখ্যাকৃত ইমাম ইবনু ক্বোদামাহ আল মাক্বদিছী o এর সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ “লুম‘আতুল ই‘তিক্বাদ”এর ধারাবাহিক অডিও ভাষান্তর। বাংলা ভাষায় অডিওরূপে এটি ভাষান্তর করেছেন উছ্‌তায আবূ ছা‘আদা হাম্মাদ বিল্লাহ c। এতে ছালাফে সালিহীনের (4) আক্বীদাহ-বিশ্বাসের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। আহলুছ্ ছুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের ‘উলামায়ে কিরামের চিরাচরিত স্বভাব–বৈশিষ্ট্যও হলো যে, তারা তাদের লিখনীর মাধ্যমে সর্বাগ্রে বিশুদ্ধ ইছলামী ‘আক্বীদাহ সংরক্ষণ এবং তা প্রচার ও প্রসার করে থাকেন। বক্তব্যের এ পর্বে উছতায হাম্মাদ বিল্লাহ c ক্বিয়ামাতের অন্যতম ‘আলামত- পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া সম্পর্কে এবং ক্বাবারের আযাব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। আলোচনার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:-
১) ক্বিয়ামাতের অন্যতম ‘আলামত- পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া। ইমাম ইবনু ক্বোদামাহ o এর একথার ব্যাখ্যায় শাইখ ‘উছাইমীন o বলেছেন যে, এ বিষয়টি ক্বোরআন ও ছুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত।

ক) ক্বোরআনে কারীম থেকে এর প্রমাণ হলো-
ছূরা আল আন’আমের ১৫৮ নং আয়াত। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন:-

يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا

অর্থাৎ- যে দিন তোমার রাবের কতক নিদর্শন এসে যাবে সে দিন ঐ ব্যক্তির ঈমান কোন সুফল দিবে না যে পূর্বে ঈমান আনেনি বা ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ অর্জন করেনি।ছূরা আল আন’আম-১৫৮
শাইখ ‘উছাইমীন o বলেছেন যে, উক্ত আয়াতে ‘কতক নিদর্শন’ বলতে- পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়াকে বুঝানো হয়েছে। এই তাফছীর বিভিন্ন হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত।
খ) রাছূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া ছাল্লামের হাদীছ থেকে এর প্রমাণ হলো:-
সাহীহ্‌ বুখারী ও সাহীহ্‌ মুছলিমে আবূ হুরায়রাহ 4 থেকে বর্ণিত হাদীছ, রাছূলুল্লাহ 1 বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ক্বিয়ামাত হবেনা। এটি যখন মানুষজন প্রত্যক্ষ করবে, তখন সমগ্র মানবজাতি ঈমান আনবে। কিন্তু, তখন তাদের ঈমান গ্রহণ কোনও কাজে আসবে না। (সাহীহ্‌ বুখারী ও সাহীহ্‌ মুছলিম)
মুছনাদে আহ্‌মাদে বর্ণিত রয়েছে, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর 3 বলেছেন, ক্বিয়ামাতের বড় ‘আলামাতগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো- পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া। অতঃপর, দাব্বাতুল আরদ। এবং, এই উভয় ‘আলামাতই খুব কাছাকাছি সময়ের মধ্যে সংঘটিত হবে। অতঃপর তিনি ছূরা আল আন’আমের ১৫৮ নং আয়াতটি তিলাওয়াত করেন।মুছনাদুল ইমাম আহমাদ
অন্য আরেকটি হাদীছ থেকে জানা যায়, পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়ার আগের রাতটি খুবই দীর্ঘ হবে।

২) পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া সম্পর্কিত হাদীছ সমূহের মধ্যে দেখা যায় যে, কোথাও বলা হয়েছে ক্বিয়ামাতের প্রথম ‘আলামাত হবে- পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া। আবার কোথাও বলা হয়েছে ক্বিয়ামাতের প্রথম ‘আলামাত হবে- দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ। আবার কোথাও বলা হয়েছে ক্বিয়ামাতের প্রথম আলামাত হবে- দাব্বাতুল আর্‌দ্ব এর আত্মপ্রকাশ। প্রশ্ন হলো এসবের মধ্যে কোনটি সঠিক ?
এর উত্তরে আমরা বলব যে, স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিটি বর্ণনাই সঠিক। যেমন- দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হবে ভূপৃষ্ঠের মধ্যে ক্বিয়ামাতের প্রথম ‘আলামাত। পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়ার ব্যাপারটি হবে আকাশের মধ্যে ক্বিয়ামাতের প্রথম ‘আলামাত। তেমনি দাব্বাতুল আর্‌দ্ব এর আত্মপ্রকাশ হবে ভূগর্ভে ক্বিয়ামাতের প্রথম ‘আলামাত। অতএব এসব হাদীছের মধ্যে কোনরূপ বৈপরিত্য নেই।
৩) পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়ার ব্যাপারটি কি সমগ্র পৃথিবীর সবাই একই সাথে দেখবে, নাকি বর্তমান সময়ের মত বিভিন্ন দেশের মানুষ বিভিন্ন সময় দেখবে?
অধিকাংশ ‘উলামায়ে কিরামের অভিমত হলো, বিভিন্ন দেশের মানুষ বিভিন্ন সময় এটি প্রত্যক্ষ করবে।
৪) এরপর উছ্‌তায কিছু বাহ্যিক সংশয় নিরূপণ করেছেন। যেমন:-
ছূরা আল আন’আমের ১৫৮ নং আয়াতে বলা হয়েছে- ঐ ব্যক্তির ঈমান কোন সুফল দিবে না যে পূর্বে ঈমান আনেনি বা ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ অর্জন করেনি।
অন্য আরেকটি হাদীছ থেকে জানা যায়- তাওবার দরজা পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত খোলা থাকবে।
আবূ হুরায়রাহ 3 থেকে বর্ণিত, রাছূলুল্লাহ 1 বলেছেন:- তিনটি বিষয় যখন প্রকাশিত হবে, তখন ইতোপূর্বে যারা ঈমান আনেনি ও সৎকর্ম করেনি, তখন তাদের ঈমান ও সৎকর্ম কোন কাজে আসবে না। বিষয়গুলো হলো- দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ, দাব্বাতুল আর্‌দ্ব এর আত্মপ্রকাশ এবং পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া।সাহীহ্‌ মুছলিম
উল্লেখ্য যে বিশুদ্ধ হাদীছ দ্বারা জানা যায় যে, দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ অবশ্যই পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়ার আগে হবে। দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের পর ‘ঈছা ‘আলাইহিছ্‌ ছালাম অবতরণ করবেন। তিনি দাজ্জালকে হত্যা করবেন এবং তিনি ইয়াহুদী, নাসারাদেরকে ইছলাম ক্ববূল করতে বলবেন অন্যথায় তাদের হত্যা করবেন। এর দ্বারা বৃঝা যায় যে, দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের পরও ঈমান গ্রেহণের সুযোগ আছে।
প্রশ্ন হলো যে, তাহলে, উক্ত বর্ণনাগুলোর মধ্যে আমরা সমন্বয় করব কিভাবে?
এর জাওয়াবে ‘উলামায়ে কিরাম থেকে তিন ধরনের মতামত পাওয়া যায়। যেমন:-

ক) ১ম পক্ষের মত হলো:- এটি বর্ণনাকারীর বিভ্রাট। দাজ্জাল তিনি ভুলে বলে ফেলেছেন।
খ) ২য় পক্ষের মত হল:- এটি শাব্দিকভাবে উলটপালট হয়ে গেছে। বর্ণনাকারী দুখানের (ধোঁয়া) পরিবর্তে দাজ্জাল বলে ফেলেছেন।
উপরের দুইটি অভিমতই প্রায় কাছাকাছি। কিন্তু এ অভিমতগুলো গ্রহণযোগ্য নয়। বরং সাহীহ্‌ মুছলিমে আবূ হুরায়রাহ 3 থেকে বর্ণিত হাদীছটিই বেশি গ্রহণযোগ্য।
আলবানী o বরং দুখানের বর্ণনাকে ভুল আখ্যা দিয়েছেন। দাজ্জালের বর্ণনাকেই তিনি সঠিক বলেছেন।
তাহলে এই সংশয়ের জবাব কি?
গ) ৩য় পক্ষের ‘উলামারা আরেকটি সমাধান দিয়েছেন। তা হলো:- এই তিনটি বিষয় প্রকাশ হওয়ার পর তারা আর ঈমান আনার তাওফীক্ব পাবে না। এক্ষেত্রে দাজ্জাল আসার পর হয়তো তারা হতবিহ্বল হয়ে পড়বে, তাই ঈমান আনার সুযোগই পাবে না। কিন্তু অপর দুইটির ক্ষেত্রে হয়তো তাদের ঈমান আর ক্বাবূলই হবে না।
তারা এর স্বপক্ষে হাদীছ এনেছেন। তা হলো, আবূ হুরায়রাহ 3 থেকে বর্ণিত, রাছূলুল্লাহ 1 বলেছেন:- ছয়টি বিষয় সংঘটিত হওয়ার আগে তোমরা ভালো কাজের দিকে অগ্রসর হও। আর সেগুলো হলো- পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া, দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ, ধোঁয়া নির্গত হওয়া, দাব্বাতুল আর্‌দ্ব এর আত্মপ্রকাশ এবং ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ হওয়ার পূর্বে (যেমন, অসুস্থতা, দারিদ্রতা)। সর্বোপরি মৃত্যু আসার পূর্বে।সাহীহ্‌ মুছলিম
এর ব্যাখ্যায় ইমাম ছিন্‌দী o ইবনু মাজাহতে বলেছেন- এই ছয়টি জিনিস সংঘটিত হওয়ার আগেই তোমরা ভালো কাজ করো, নতুবা এগুলোই তোমাদেরকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে, তোমরা আর সৎকর্ম করার সুযোগ পাবে না।
ইমাম ইবনু রাজাব o বলেছেন- এগুলোই ভালো কাজের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।
ঘ) ৪র্থ পক্ষের জাওয়াব হলো- এখানে ৩টি বিষয় প্রকাশিত হওয়ার পর ঈমান বা সৎকর্ম কাজে আসবে না বলা হয়েছে, তন্মধ্যে একটি প্রকাশিত হওয়ার পর কাজে আসবে না একথা বলা হয়নি। এই ৪র্থ জাওয়াব ও অভিমতটি হলো সবচেয়ে যথার্থ ও গ্রহণযোগ্য।

৫) অতঃপর ইমাম ইবনু ক্বোদামাহ o বলেছেন- ক্বাবারের সুখ-শান্তি ও ‘আযাব সত্য।
এর ব্যাখ্যায় শাইখ ‘উছাইমীন o বলেছেন- এটি সত্য ও সঠিক। ক্বোরআন, ছুন্নাহ, ইজমা‘ দ্বারা এটি প্রমাণিত।
ক্বোরআনে কারীম থেকে দালীল হিসেবে তিনি ছূরা আল ওয়াক্বি‘য়ার ৮৩-৯৫ নং আয়াত উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ 0 ইরশাদ করেছেন:-

فَلَوْلَا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَٰكِنْ لَا تُبْصِرُونَ فَلَوْلَا إِنْ كُنْتُمْ غَيْرَ مَدِينِينَ تَرْجِعُونَهَا إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ فَأَمَّا إِنْ كَانَ مِنَ الْمُقَرَّبِينَ فَرَوْحٌ وَرَيْحَانٌ وَجَنَّتُ نَعِيمٍ وَأَمَّا إِنْ كَانَ مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِينِ فَسَلَامٌ لَكَ مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِينِ وَأَمَّا إِنْ كَانَ مِنَ الْمُكَذِّبِينَ الضَّالِّينَ فَنُزُلٌ مِنْ حَمِيمٍ وَتَصْلِيَةُ جَحِيمٍ إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ حَقُّ الْيَقِينِ

অর্থাৎ- তাহলে কেন (তোমরা বাঁধা দাও না) যখন প্রাণ এসে যায় কণ্ঠনালীতে? আর তোমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখ, অথচ আমি তোমাদের চেয়ে তার অধিক নিকটবর্তী, কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না। তোমরা যদি (আমার) কর্তৃত্বের অধীন না হয়ে থাক, তাহলে তোমরা তাকে (তোমাদের প্রাণকে মৃত্যুর সময়) ফিরিয়ে নাও না কেন যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক ? অতএব সে যদি (আল্লাহর) নৈকট্য প্রাপ্তদের একজন হয়, তাহলে (তার জন্য আছে) আরাম-শান্তি, উত্তম রিয্‌ক্ব আর নি‘মাতে ভরা জান্নাত। আর যদি সে ডান দিকের একজন হয়, তাহলে হে ডানের বাসিন্দা! তোমার জন্য আছে শান্তি ও নিরাপত্তা। আর সে যদি সত্য অস্বীকারকারী গুমরাহদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তার আপ্যায়ন হবে ফুটন্ত পানি দিয়ে। আর (তার জন্য আছে) জাহান্নামের আগুনের দহন, নিশ্চয় এটা সুনিশ্চিত সত্য।(ছূরা আল ওয়াক্বি‘য়াহ-৮৩-৯৫
শাইখ এখানে আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা বর্ণনা করেছেন। এই আয়াতগুলো ক্বাব্‌রের ‘আযাবকে প্রমাণ করে।
ক্বাব্‌রের ‘আযাব সম্পর্কে রাছূলুল্লাহ এর হাদীছ থেকে প্রমাণ:-
রাছূলুল্লাহ 1 চারটি বিষয় থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে বলেছেন, তা হলো- ক্বাব্‌রের ‘আযাব থেকে, দাজ্জাল থেকে , জাহান্নাম থেকে এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে।
বারা ইবনু ‘আযীব 3 থেকে বর্ণিত, মূ’মিন সম্পর্কে রাছূলুল্লাহ 1 বলেছেন যে, সে যখন মুনকার ও নাকীরের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিবে তখন আকাশ থেকে একজন আহ্বানকারী আহ্বান করবেন- আমার বান্দাহ সত্য বলেছে। তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও। তাকে জান্নাতের পোষাক পরিয়ে দাও। তার জন্য জান্নাতের দিকে দরজা খুলে দাও। অতঃপর তার ক্বাব্‌রকে তার চোখের শেষ সীমা পর্যন্ত প্রশস্থ করে দেওয়া হবে।
অপরদিকে, কাফিররা যখন ক্বাব্‌রের তিনটি প্রশ্নের জবাব দিতে পারবে না, তখন আকাশ থেকে একজন আহ্বানকারী আহ্বান করবেন, আমার বান্দাহ মিথ্যা বলেছে। তার জন্য জাহান্নামের বিছানা বিছিয়ে দাও। তাকে জাহান্নামের পোষাক পরিয়ে দাও। তার জন্য জাহান্নামের দিকে দরজা খুলে দাও। অতঃপর তাকে ক্বাব্‌র দুইপাশ থেকে প্রচণ্ড জোরে চাপ দিতে থাকবে।মুছনাদুল ইমাম আহ্‌মাদ, ছুনানু আবী দাঊদ, ছুনানুন্‌ নাছায়ী, ছুনানু ইবনি মাজাহ
ইবনুল ক্বাইয়্যিম o এ বিষয়গুলো তার কিতাবুর্‌ রূহে আলোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ক্বাব্‌রের সুখ-শান্তি ও ‘আযাবের বিষয়ে উম্মাতের ইজমা’ রয়েছে।
তবে মু‘তাযিলী সম্প্রদায় এটি অস্বীকার করে। তাদের যুক্তি হলো যে, ক্বাব্‌র খুঁড়লে তো আমরা কিছুই দেখতে পাই না।
এর জাওয়াব হলো দু’টি। প্রথমতঃ ক্বোরআন, ছুন্নাহ ও ইজমা‘ দ্বারা এটি প্রমাণিত।
দ্বিতীয়তঃ পরকালের বিষয়গুলোকে দুন্‌ইয়ার বিষয় দিয়ে পরিমাপ করা যাবে না। এই বিষয়কে অস্বীকারকারী মূমিন হিসেবেই গণ্য হবে না।

৬) ক্বাব্‌রের সুখ-শান্তি বা ‘আযাব কি শুধু রূহের উপরে হবে, নাকি দেহের উপরেও হবে?
এর জাওয়াবে ইবনু তাইমিয়াহ o বলেছেন যে, ক্বাব্‌রের সুখ-শান্তি বা ‘আযাব দেহ ও রূহ উভয়ের উপরে হবে। রূহ্‌ দেহ থেকে আলাদা হওয়ার পরে হয়তো এটি শান্তিতে থাকবে নয়তো ‘আযাব পেতে থাকবে। কিন্তু মৃত্যুর পরেও দেহের সাথে রূহের সম্পর্ক হয়ে থাকে। তাই সুখ-শান্তি বা ‘আযাব উভয়ের উপরেই হবে।
৭) অতঃপর ‘উছাইমীন o ক্বাব্‌রের ফিতনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ক্বাব্‌রের ফিতনা বলতে এর প্রশ্নোত্তরকে বুঝানো হয়েছে। যেমন ছূরা ইবরাহীমের ২৭ নং আয়াতে আল্লাহ 0 ইরশাদ করেছেন:-

يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ وَيَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ

অর্থাৎ- যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত বাণীর অবলম্বনে দুন্‌ইয়ার জীবনে ও আখিরাতে প্রতিষ্ঠিত রাখবেন আর যালিমদেরকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করবেন। আল্লাহ যা ইচ্ছে করেন তা-ই করেন।ছূরা ইবরাহীম- ২৭
এখানে সুপ্রতিষ্ঠিত বলতে- কালিমাতুত্‌ তাওহীদকে বুঝানো হয়েছে। এবং মুফাছ্‌ছীরীনে কিরামের মতে এখানে আ-খিরাহ বলতে ক্বাব্‌রকেই বুঝানো হয়েছে।
শাইখ ফাওযান c এর মতে- ক্বাব্‌রের প্রশ্নোত্তরের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা ওয়াজিব।
সাহীহ্‌ বুখারী ও সাহীহ্‌ মুছলিমে বর্ণিত আছে- যখন কোন মুমীনকে ক্বাব্‌রে জিজ্ঞেস করা হবে, তখন সে এই সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ্‌ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহ্‌র রাছূল।
রাছূলুল্লাহ 1 বলেছেন:- এটাই হচ্ছে ছূরা ইব্‌রাহীমের ২৭ নং আয়াতের ব্যাখ্যা।
রাছূলুল্লাহ 1 বলেছেন:- কোনও মৃত ব্যক্তিকে কাব্‌রস্থ করার পর যখন সবাই ফিরে আসতে থাকে, তখন তাদের পায়ের আওয়াজও মৃত ব্যক্তি শুনতে পায়। তখন তার কাছে দুইজন ফিরিশতা আসেন, এবং তাকে উঠিয়ে বসান।সাহীহ্‌ মুছলিম
তিরমিযী-তে বর্ণিত অন্য আরেকটি হাদীছ থেকে জানা যায় যে, এই ফিরিশতাদ্বয়ের নাম হলো- মুনকার ও নাকীর।
কাফিরদেরকে এবং অন্যান্য নাবীর উম্মাতদেরকেও তেমনি প্রশ্ন করা হবে।
৭) অপ্রাপ্তবয়স্ক ও যাদের উপর শারি‘য়াতের বিধি-নিষেধ প্রযোজ্য নয়, তাদেরকেও কি ক্বাব্‌রে প্রশ্ন করা হবে?
ইবনু ক্বাইয়ীম o এই বিষয়ে তার কিতাবুর রূহে বলেছেন যে, তাদেরকেও প্রশ্ন করা হবে। কিন্তু আল্লাহ্‌র পথে শহীদগণকে এবং মুছলিম দেশের সীমান্ত প্রহরীদেরকে প্রশ্ন করা হবে না।

 

ক্লাস শেষে নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রদান করা হয়:-
১) পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়ার সময় সূর্যমণ্ডল, অন্যান্য গ্রহ, নক্ষত্র, চাঁদ এবং পৃথিবীও কি বিপরীত দিকে ঘুরবে?
২) তাওবার দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও আল্লাহ 0 যদি চান তাহলে কিছু পাপী মানুষ কি শাফা‘আত বা মাগফিরাহ পেতে পারেন, দুন্‌ইয়াতে কোনো রকম তাওবাহ করা ছাড়া?
৩) ক্বাব্‌রে মানুষের অবস্থানকাল যেহেতু কারো জন্য কম বা বেশি হবে (দুন্‌ইয়াতে আগে আর পরে জন্ম/মৃত্যুর সময় হিসেবে), তাহলে ক্বাব্‌রের শান্তি বা ‘আযাবের সময়সীমা বা পরিমাণ কিভাবে হবে বলে আমরা বুঝবো?
৪) যদি কেউ দুরূদ পাঠের সময় “ইয়া রাছূল 1” বলে, তাহলে তা কি ঠিক হবে? “ইয়া” শব্দটি কি মৃত কাউকে বলা যাবে?
৫) আমি একজন ‘আলিম দ্বারা ইছ্‌তিখারায় কিছু জিনিস দেখেছি। যেমন কেউ তাবিজ করছে কিনা বা যাদু করেছে কিনা ওটা দেখার জন্য ইছ্‌তিখারা করিয়েছিলাম। তখন উনি দেখে বললেন “আমার ভেতর কোনো এক দেও বা ভূত আছে। এবং আমি স্বপ্নে অনেক ভয়ঙ্কর জিনিস দেখি বা ভয় পাই”। এটা তিনি বলেছেন এবং সত্যি আমার সাথে তা হয়। তিনি আরো বলেছেন যে, “সেই দেও বা ভূত আমার ক্ষতি করে এবং করবে”।
আমাকে কিছু ‘আমাল করতে বলেছেন। আমি আমার স্বামীকে নিয়ে দেখিয়েছি এবং উনি বলেছেন- “আমার স্বামীর উপর জ্বীনের আছর আছে এবং সে তাকে আস্তে আস্তে ভালো দিক থেকে খারাপের দিকে নিয়ে যাবে”। উনি এ ও বলেছেন- আমার স্বামীর পরকীয়া করার সম্ভাবনা আছে এবং অধিক বিয়ের সম্ভাবনা আছে। এগুলোর “সম্ভাবনা আছে” বলেছেন তিনি, এগুলো না ও হতে পারে।
তিনি ‘আমাল করতে বলেছেন এবং পানি পড়া খেতে বলেছেন। আমি অবশ্য কোনো কিছু নেইনি। এই ‘আলিমকে আমার পরিচিত অনেকে দেখিয়েছেন এবং তার কথামতো কাজ করেছেন এবং তারা নাকি ফলও পেয়েছেন।
শাইখ! আমি এখন কী করব বুঝতে পারছি না। হুজুরের কথা শুনে অনেক টেনশন লাগছে। আমার কী করা উচিত, আমি বুঝতে পারছি না। শাইখ! একটু জবাব দিলে অনেক উপকৃত হব।


১. ছূরা আল আন’আম-১৫৮ 
২. মুছনাদুল ইমাম আহমাদ 
৩. সাহীহ্‌ মুছলিম 
৪. সাহীহ্‌ মুছলিম 
৫. মুছনাদুল ইমাম আহ্‌মাদ, ছুনানু আবী দাঊদ, ছুনানুন্‌ নাছায়ী, ছুনানু ইবনি মাজাহ 
৬. ছূরা ইবরাহীম- ২৭ 
৭. সাহীহ্‌ মুছলিম 

Subscribe to our mailing list

* indicates required
Close