আল ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু সালিহ্‌ আল ‘উছাইমীন কর্তৃক ব্যাখ্যাকৃত আল ইমাম ইবনু ক্বোদামাহ আল মাক্বদিছী রচিত -‘আক্বীদাহ সংকলন- গ্রন্থ (৩৫তম পর্ব)

এই অডিওটি হলো আশ্‌শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু সালিহ্‌ আল ‘উছাইমীন o কর্তৃক ব্যাখ্যাকৃত ইমাম ইবনু ক্বোদামাহ আল মাক্বদিছী o এর সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ “লুম‘আতুল ই‘তিক্বাদ” এর ধারাবাহিক অডিও ভাষান্তর। বাংলা ভাষায় অডিওরূপে এটি ভাষান্তর করেছেন উছতায হাম্মাদ বিল্লাহ c। এতে ছালাফে সালিহীনের (4) ‘আক্বীদাহ-বিশ্বাসের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। আহলুছ্‌ ছুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের ‘উলামায়ে কিরামের চিরাচরিত স্বভাব–বৈশিষ্ট্যও হলো যে, তারা তাদের লিখনীর মাধ্যমে সর্বাগ্রে বিশুদ্ধ ইছলামী ‘আক্বীদাহ্‌র সংরক্ষণ এবং তা প্রচার ও প্রসার করে থাকেন। বক্তব্যের এ পর্বে উছতায হাম্মাদ বিল্লাহ c বিশেষ করে ক্বাযা ও ক্বাদ্‌রের (আল্লাহ্‌র ফাইসালা ও পূর্বনির্ধারণের) বিষয় সহ নিম্নোক্ত বিষয়ে আলোচনা করেছেন:-
১) অন্তরের বিশ্বাস, মৌখিক স্বীকৃতি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা কার্য সম্পাদন, এই তিনটি বিষয়ের সমষ্টি হলো ঈমান। আল্লাহ্‌র (0) আনুগত্যের মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং তাঁর অবাধ্যতার ফলে ঈমান হ্রাস পায়।
২) ইমাম ইবনু ক্বোদামাহ আল মাক্বদিছী o এবং শাইখ সালিহ্‌ আল ‘উছাইমীন o ক্বোরআন-হাদীছ থেকে এতদ্বিষয়ে যে সব দালীল উল্লেখ করেছেন, উছতায সেই দালীলগুলো ব্যাখ্যা করেছেন।
৩) কথা ও কাজ ঈমানের অপরিহার্য অংশ। আহলে ছুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের বিশ্বাস হলো যদি কারো অন্তরে গমের দানা পরিমাণও ঈমান (মৃত্যুকালে) থাকে, তাহলেও সে একপর্যায়ে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
৪) যারা ইমাম আবূ হানীফাহ o এবং শাইখ আল আলবানীকে (o) “মুরজী” বলে আখ্যায়িত করে, উছতায তাদের দাবী প্রত্যাখ্যান ও খন্ডন করেছেন।
৫) হিজাব বিষয়ে শাইখ আল আলবানির (o) একটি অভিমতকে কেন্দ্র করে যারা তাঁর সম্পর্কে বাজে কথা-বার্তা বলে, তাদের প্রতি নাসীহাত।
৬) ঈমান বিষয়ে মু‘তাযিলাহ এবং খারিজীগণ কিরূপ ‘আক্বীদাহ-বিশ্বাস পোষণ করে থাকে?
৭) সন্ত্রাসবাদ সমগ্র বিশ্বে একটি মারাত্মক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্ন হলো- এটি কি নতুন কোন সমস্যা না বহু পূরাতন? কারা এসব করছে, ছালাফী বা ওয়াহ্যাবীগন নাকি প্রকৃতপক্ষে অন্য কেউ? সন্ত্রাসীরা কেন সন্ত্রাস করছে? এদেরকে প্রতিরোধ ও মোক্বাবিলার যথার্থ উপায় কি? অনাকাঙ্খিত হলেও সত্য যে, সন্ত্রাসবাদ নির্মূল বা মোক্বাবিলার দায়িত্ব যাদের উপর রয়েছে, তারা সন্ত্রাসবাদের উrপত্তি ও বিকাশের মূল কারণ উদঘাটনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছেন।
৮) “ইরজা” এবং “মুরজিয়াহ” এর সংজ্ঞা। “ইমাম আবূ হানীফাহ কি মুরজী” উছতায বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন এবং অত্যন্ত সুন্দরভাবে এই সংশয়টি নিরসন করেছেন।
ক্লাস শেষে নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রদান করা হয়:-

 

ক) السلام عليكم ورحمة الله وبركاته।
শাইখ! আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবি করুন! যদি কেউ খারিজী ‘আক্বীদাহ নিয়ে মৃত্যুবরণ করে, তাহলে সে কি চিরকালের জন্য জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।
খ) শাইখ! “যে ব্যক্তি ইছলামী সরকারের কিংবা মুছলিম নেতার বিরুদ্ধাচরণ করবে, সে হবে জাহান্নামের কুকুর” এতদসম্পর্কিত হাদীছটি সম্পর্কে অনুগ্রহ করে কিছু বলুন।
গ) যারা ইছলামের নামে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নারী ও শিশুসহ নিরপরাধ মানুষকে; বিশেষ করে মুছলমানদেরকে হত্যা করে, এরূপ পথভ্রষ্টরা কি জাহান্নামের চিরস্থায়ী বাসিন্দা হবে?
আল্লাহ 7 আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।
ঘ) আজকের আলোচনার একপর্যায়ে উছতাযের উদ্দেশ্য ছিল এটা বলা যে, ছালাফীগণ খারিজী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও লড়াইয়ে সদা সোচ্চার, কিন্তু ভুলবশতঃ তিনি এখানে Protesters এর পরিবর্তে protectors উচ্চারণ করেছেন। আলহামদুল্লিল্লাহ! ক্লাস চলাকালীনই অনিচ্ছাকৃত এ ভুল শুধরে দেয়ার জন্য আল্লাহ 8 আপনাদেরকে উত্তম প্রতিদান প্রদান করুন।
ঙ) السلام عليكم ورحمة الله।
শাইখ! আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান প্রদান করুন। আমার প্রশ্ন হলো- যদি কারো মধ্যে খারিজীদের আচার-বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, তাহলে তাকে কি আমরা খারিজী বলে আখ্যায়িত করতে পারি? এরূপ ব্যক্তিকে আমরা কিভাবে নাসীহাত করব?

Subscribe to our mailing list

* indicates required
Close