ড. আশ্‌ শাইখ সালিহ্‌ আল ফাওযান কর্তৃক ব্যাখ্যাকৃত ইমাম আল বারবাহারী রচিত “শারহুছ্ ছুন্নাহ (ছুন্নাতের ব্যাখ্যা)” (৩৮নং পর্ব)

এটি মুহ্‌তারাম আশ্‌শাইখ সালিহ্‌ আলফাওযান (c) কর্তৃক আহলে ছুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের প্রখ্যাত ইমাম- ইমাম আল বারবাহারী (o) এর অনবদ্য গ্রন্থ “শারহুছ্‌ ছুন্নাহ” এর অতি চমৎকার ও মূল্যবান ব্যাখ্যাগ্রন্থের অডিও ভাষান্তর।
বাংলা ভাষায় গ্রন্থটি ধারাবাহিকভাবে অডিও ভাষান্তর করছেন উছতায আবূ ছা‘আদা হাম্মাদ বিল্লাহ (c)। অদ্যকার আলোচনায় উছতায ক্বাবরের ‘আযাব এবং মুনকার ও নাকীর ফিরিশতাদ্বয়ের প্রতি বিশ্বাস পোষণ বিষয়ে মূল্যবান আলোচনা
করেছেন। এছাড়াও তাতে নিম্নোক্ত বিষয়াদী সম্পর্কে অত্যন্ত চমৎকার আলোচনা করা হয়েছে:-
১) দারুল বারযাখ হলো অপেক্ষাগৃহ আর দারুল ক্বারার হলো স্থায়ীগৃহ।
২) আল্লাহ 1 ইরশাদ করেছেন-
حَتَّى زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ.
ছূরা আত্‌তাকাছুর এর ২নং আয়াত (حَتَّى زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ) দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ক্বাব্‌র কোন স্থায়ী আবাস নয়, বরং ক্বাব্‌রে মানুষের অবস্থান হলো একজন ভ্রমণকারীর ন্যায়। তাই এই আয়াতে ক্বাব্‌রস্থ হওয়াকে “ক্বাব্‌র যিয়ারাত করা” বলে
উল্লেখ করা হয়েছে।
৩) মৃত ব্যক্তিকে ক্বাব্‌রে ‍তিনটি প্রশ্ন করা হবে- ক) কে তোমার পালনকর্তা? খ) তোমার দ্বীন কী? গ) তোমার নাবী কে?
৪) যেসব লোক নিজেদের জ্ঞান-গরীমা ও পান্ডিত্য প্রদর্শন করে থাকে, যাদের মধ্যে ইখলাসের প্রচন্ড অভাব রয়েছে, সেই সকল লোকদের ব্যাপারে শাইখ সতর্ক করেছেন।
৫) জনপ্রিয় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং দ্বীনী জ্ঞান অর্জনের জন্য এসব যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার বিষয়ে উছতায আলোচনা করেছেন।
তথাকথিত যেসব দা‘য়ী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন ফোরামে (প্রকাশ্য আলোচনার ক্ষেত্র) নিজেদের পান্ডিত্য প্রদর্শনের কসরত করে থাকেন, শাইখ তাদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহারে খুবই সতর্ক থাকতে হবে। অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে যে, স্যোশাল মিডিয়ার কোন ফোরাম- দ্বীনী বিষয়ে গবেষণা কিংবা এতদ্বিষয়ে পারস্পরিক মত বিনিময়ের স্থান নয়। এসব ফোরামে একান্তই যদি কিছু
লিখতে হয়, তাহলে ‘উলামায়ে কিরাম যা বলেছেন, ফোরামে হুবহু তা-ই তুলে ধরতে হবে, কিংবা দ্বীনী গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় একে অপরকে কেবল স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য এসব ফোরাম ব্যবহার করা যেতে পারে, এর বেশি কিছু না।
মোটকথা, এ জাতীয় ফোরামে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, কেননা অনেকেই এরূপ ফোরামের মাধ্যমে নানারকম ভ্রান্ত মতাদর্শ প্রচার করে থাকে। কখনো তারা ছালাফী ‘উলামায়ে কিরামের প্রবন্ধ-নিবন্ধের
পাশাপাশি অন্যদের প্রবন্ধ-নিবন্ধও এতে তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত করে থাকে।
৬) আল্লাহ 7 ইরশাদ করেছেন-

وَلَنُذِيقَنَّهُمْ مِنَ الْعَذَابِ الْأَدْنَى دُوْنَ الْعَذَابِ الْأَكْبَرِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُوْنَ

অর্থাৎ- আর বড় শাস্তির পূর্বে তাদেরকে আমি অবশ্যই ছোট শাস্তি আস্বাদন করাব, এতে করে হয়তো তারা ফিরে আসতে পারে।ছূরা আছ্‌ছাজদাহ- ২১
এই আয়াতটির ব্যাখ্যা।
৭) আল্লাহ 0 ইরশাদ করেছেন-

النَّارُ يُعْرَضُوْنَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوْا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ

অর্থাৎ- তাদেরকে সকালে ও সন্ধ্যায় আগুনের সামনে উপস্থিত করা হয় এবং যেদিন ক্বিয়ামাত সংঘটিত হবে সেদিন বলা হবে “ফির‘আউন বংশকে কঠিনতম শাস্তিতে প্রবেশ করাও”।ছূরা আল মু’মিন- ৪৬
এই আয়াতের ব্যাখ্যা।
৮) আল্লাহ 8 ইরশাদ করেছেন-

وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِيْ فَإِنَّ لَهُ مَعِيْشَةً ضَنْكاً وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيـمَةِ أَعْمَى

অর্থাৎ- আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে, নিশ্চয় তার জীবিকা হবে সংকুচিত এবং আমি তাকে ক্বিয়ামাতের দিন সমবেত করব দৃষ্টিহীন অবস্থায়।ছূরা ত্বা-হা- ১২৪
এই আয়াতের ব্যাখ্যা।
৯) যে সকল ব্যক্তি বা দল ক্বাব্‌রের শাস্তিকে অস্বীকার করে, তাদের ব্যাপারে শারী‘য়াতের হুক্‌ম কী।
১০) ক্বাব্‌র সংকোচিত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা।
১১) শাস্তি দেহকে দেয়া হবে না-কি রূহ্‌কে, এতদ্বিষয়ে আরো কিছু আলোচনা।
১২) কে প্রাণ সংহরণ করবেন – আল্লাহ, না-কি মালাকুল মাউত, না ফিরিশতাদের নির্দিষ্ট দল?

 

ক্লাস শেষে নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রদান করা হয়:-
ক) السلام عليكم।
ভাই, বিভিন্ন সফটওয়্যার, ওয়েবসাইট নির্মাতা তার এ্যাপ বা সাইটে এ্যাডভারটাইজের মাধ্যমে যে ইনকাম করে, তার হালাল-হারামের ব্যাপারটা কিরূপ?
খ)আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো- ক্বাব্‌রের শাস্তি বিষয়ে আশ‘আরী সম্প্রদায়ের ‘আক্বীদাহ-বিশ্বাস কী?
গ) السلام عليكم ورحمة الله وبركاته।
শাইখ! হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp), ভাইবার (Viber) সহ অন্যান্য ইন্টারনেট ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইছলাম বিষয়ক দলবদ্ধ কথোপকথন ব্যবস্থা (চ্যাট গ্রুপ) সম্পর্কে আপনার মূল্যবান উপদেশ ও দিক-নির্দেশনার জন্য আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান ও
দীর্ঘ জীবন দান করুন। (আল্লাহুম্মা আ-মী-ন)
শাইখ আমার প্রশ্নগুলো হলো-

১) তাক্বওয়া ও ইখলাস বজায় রেখে একজন শিক্ষার্থী কিভাবে দ্বীনী জ্ঞান অর্জন করবে এবং মানুষকে দ্বীনের দা‘ওয়াত দেবে?
২) দ্বীনী জ্ঞান অর্জনরত একজন শিক্ষার্থীর জন্য তার অর্জিত জ্ঞানের কি কতটুকু অপরকে জানানো বা অন্যের কাছে পৌঁছানো উচিত?
৩) দ্বীন শিক্ষারত কোন ছাত্র যদি অভিশপ্ত শাইত্বানের ফাঁদে পড়ে যায় তাহলে তা থেকে বেরিয়ে আসার এবং পূণরায় নিজের ইখলাসকে সুদৃঢ় করার উপায় কী? শাইখ এ বিষয়ে আমাদেরকে সুষ্পষ্ট নির্দেশনা সহ উৎসাহব্যঞ্জক কিছু বলুন।
৪) কোন মুছলমান যদি যৌবনে পাগল হয়ে যায় এবং পাগল অবস্থায়ই বৃদ্ধ হয়ে মারা যায়, তাহলে তার শাস্তি বিষয়ে আমাদের ‘উলামায়ে কিরামের অভিমত কী?
আল্লাহ 0 আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং আপনার মধ্যে বারাকাহ ও কল্যাণ দান করুন।


১. ছূরা আছ্‌ছাজদাহ- ২১ 
২. ছূরা আল মু’মিন- ৪৬ 
৩. ছূরা ত্বা-হা- ১২৪ 

Subscribe to our mailing list

* indicates required
Close